ঢাকা, সোমবার, ১ জুন, ২০২৬ ()
শিরোনাম
Headline Bullet তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেফতার ১ Headline Bullet কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার Headline Bullet কুমিল্লায় ৪০০০ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেফতার এক Headline Bullet রাজবাড়ি ভূমি অফিস থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার Headline Bullet কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের দৌলতপুর বিভিন্ন পুলিশ ক্যাম্প আকস্মিক পরিদর্শন Headline Bullet কুষ্টিয়ায় গতকাল সেনাসদস্য বহনকারী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ Headline Bullet আজ রাসমিকা হত্যার চার্জ গঠন Headline Bullet ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্যাং রেপ সহ নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ০৪ জন আসামীর দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান Headline Bullet যশোরে ডিবির অভিযানে র্শীষ সন্ত্রাসী খোঁড়া কামরুল গ্রেফতার Headline Bullet চুয়াডাঙ্গার সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ জন আটক

আজ রাসমিকা হত্যার চার্জ গঠন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। তদন্ত শুরুর মাত্র ছয় দিনের মাথায় আদালতে নিখুঁত ও দ্রুততম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়ার পর আজ সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আদালতে আজ চার্জ গঠন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্যমতে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে এই সুগভীর অপরাধে সরাসরি সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য এই মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়। বিজ্ঞ আদালত আজকেই এর চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলো।

এই বিষয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপক্ষের নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আইনগত সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাটি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করব। বাকি আইনি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করবেন।” সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসের প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। একজন আইন কর্মকর্তা হিসেবে এ মামলায় অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আমি শতভাগ নিষ্ঠার সাথে পালন করব।”

এদিকে, মামলার রায় ও তা কার্যকর করার জটিল আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত প্যানেল আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই তার আইনগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক রায় খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তবে কেবল নিম্ন আদালতে রায় হওয়াই শেষ কথা নয়, এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ, যা সাধারণত উচ্চ আদালতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে।” তিনি আরও যোগ করেন, “নিম্ন আদালতের রায়ের পর কারা কর্তৃপক্ষ (জেলার) এবং মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিশেষ সদয় হস্তক্ষেপ ও তদারকি থাকলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ উচ্চ আদালতের পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। অন্যথায়, চূড়ান্ত ফয়সালা হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।”

মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার নিজ ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুঁসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় রামিসার পরিবার দরজা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝে থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ইতোমধ্যে আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।


     এই বিভাগের আরো খবর